Posted on

ফরজ সালাতের সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ

#বিশেষ_দ্রষ্টব্যঃ

ফরজ সালাতের সালাম ফিরানোর পর প্রচলিত মুনাজাত বিদ’আত। তাই বিদ’আতী মুনাজাত বর্জন করে নিম্মোক্ত সহীহ হাদিসের যিকরসমূহ সহীহ সুন্নাহর আমল অনুযায়ী যথাযত করাই রাসূলের সুন্নাত।

. ★★★
★ আল্লা-হু আকবার। (একবার)
অর্থঃ “আল্লাহ সবচেয়ে বড়।” [সহীহ বুখারী, হাদিস ৮৪২]
★ আস্তাগফিরুল্লা-হ (তিনবার)
অর্থঃ“আমি আল্লাহ্‌র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
[সহীহ মুসলিম, হাদিস ৫৯১]

★ আল্লা-হুম্মা আনতাস্ সালা-ম ওয়া মিনকাস্ সালা-ম, তাবা-রাকতা ইয়া-যাল জালা-লি ওয়াল-ইকরা-ম।
অর্থঃ “হে আল্লাহ! আপনি শান্তিময়। আপনার নিকট থেকেই শান্তি বর্ষিত হয়। আপনি বরকতময়, হে মহিমাময় ও সম্মানের অধিকারী!”[সহীহ মুসলিম, হাদিস ৫৯১]

★ লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহু-লা শারীকা লাহু, -লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়াহুওয়া ‘আলা-কুল্লি শাই’ইন ক্বাদী-র। লা-হাওলা ওয়ালা-কুওয়াতা ইল্লা -বিল্লা-হ। লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, ওয়ালা- না‘বুদু ইল্লা ইয়্যা-হু। লাহুন নি‘মাতু ওয়া লাহুল ফাযলু, ওয়া লাহুসসানা-উল হাসান। লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু মুখলিসীনা লাহুদ-দ্বীন ওয়া লাও কারিহাল কা-ফিরূ-ন।

অর্থঃ “একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি নেই। আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, আমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করি, নেয়ামতসমূহ তাঁরই, যাবতীয় অনুগ্রহও তাঁর এবং উত্তম প্রশংসা তাঁরই। আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, আমরা তাঁর দেয়া দ্বীনকে একনিষ্ঠভাবে মান্য করি, যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে”।[সহীহ মুসলিম, হাদিস ৫৯৪।]

★ আল্লা-হুম্মা লা-মা-নি‘আ লিমা-আ‘ত্বাইতা, ওয়ালা- মু‘তিয়া লিমা- মানা‘তা, ওয়া-লা ইয়ানফা‘উ যালজাদ্দি মিনকাল জাদ্দ্।
অর্থঃ “হে আল্লাহ, আপনি যা প্রদান করেছেন তা বন্ধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রুদ্ধ করেছেন তা প্রদান করার কেউ নেই। আর কোনো ক্ষমতা-প্রতিপত্তির অধিকারীর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি আপনার কাছে কোনো উপকারে আসবে না।”[সহীহ বুখারী, হাদিস ৮৪৪; সহীহ মুসলিম, হাদিস ৫৯৩।]

★ আল্লা-হুম্মা আ’ইন্নী-আলা-যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ‘ইবা-দাতিক।
অর্থঃ ” হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আপনাকে স্মরণ করার, আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার এবং আপনার উৎকৃষ্ট ইবাদত করার ক্ষেত্রে সাহায্য করুন।” [সুনান আবু দাউদ, হাদিস ১৫২২; সুনান নাসাঈ, হাদিস ১৩০৩]

★ সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী-,আদাদা খালক্বিহী-ওয়া রিযা- নাফসিহী-ওয়া যিনাতা আরশিহী- এয়া মিদা-দা কালিমা-তিহ্।
অর্থঃ “আমি আল্লাহর সকল প্রশংসাসহ, তাঁর সৃষ্টিকুলের সংখ্যার সমপরিমাণ, তাঁর সত্ত্বার সন্তুষ্টির সমপরিমাণ এবং তাঁর আরশের ওজন ও মহিমাময় বাক্যসমূহের ব্যাপ্তি পরিমাণ পবিত্রতা বর্ননা করছি।”
[সহীহ মুসলিম, হাদিস ২৭২৬]

★ সুবহা-নাল্লাহ – ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ – ৩৩ বার, আল্লা-হু আকবার – ৩৩ বার। লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর – ১ বার।
অর্থঃ “আল্লাহ কতই না পবিত্র-মহান। সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য।আল্লাহ সবচেয়ে বড়।”“একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সকল প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।”[সহীহ মুসলিম, হাদিস ৫৯৭]

★ আয়াতুল কুরসী। প্রত্যেক সালাতের পর একবার। [হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি প্রত্যেক সালাতের পরে আয়াতুল কুরসী পড়বে, তাকে মৃত্যু ব্যতীত জান্নাতে প্রবেশে আর অন্য কিছু বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।” [সহীহা, হাদিস ৫৯৭; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল্লাইলাহ, হাদিস ১০০; ইবনুস সুন্নী, হাদিস ১২১। আর শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহুল জামে‘ ৫/৩৩৯ তে এবং সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহা, হাদিস ৯৭২ তে সহীহ বলেছেন। আর আয়াতটি হলো সূরা আল-বাকারাহ্‌- আয়াত২৫৫]

★ ফজর এবং মাগরিব ফরজ সালাতের পর তিনবার করে আর জোহর, আসর, এশার ফরজ সালাতের পর একবার করে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়বে। [আবু দাঊদ, হাদিস ১৫২৩; তিরমিযী, হাদিস ২৯০৩; নাসাঈ, হাদিস ৫৯৭ ও হাদিস ১৩৩৫। আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ২/৮। আর এ তিনটি সূরাকে ‘আল-মু‘আওয়াযাত’ অথবা ‘তিনক্বুল’ বলা হয়।]

★আল্লা-হুম্মা ইন্নী-আ’উ-যুবিকা মিন ‘আযা-বি জাহান্নাম।
অর্থঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট জাহান্নামের শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” [সহীহ বুখারী, হাদিস ৭২২৩]

★ আল্লা-হুম্মা ইন্নী-আস’আলুকা জান্নাতাল ফিরদাউস।
অর্থঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট জান্নাতুল ফিরদাউস প্রার্থণা করছি।” [সহীহ বুখারী,হাদিস ৭২২৩]

★ আল্লা-হুম্মা ইন্নী-আ’উ-যুবিকা মিনাল জুবনি, ওয়া আ’উযুবিকা মিনাল বুখলি, ওয়া আ’উযুবিকা মিন আন উরাদদা ইলা- আরযালিল উমুর, ওয়া আ’উ-যুবিক মিন ফিৎনাতিদ দুনইয়া-, ওয়া আযা-বিল ক্বাবর।
অর্থঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি ভীরুতা হতে, আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা হতে, আশ্রয় প্রার্থনা করছি নিকৃষ্টতম বয়সে পৌছাঁ হতে, আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুনিয়ার ফিৎনা হতে এবং কবরের আযাব হতে।” [সহীহ বুখারী, হাদিস ২৮২২]

★ ইয়া- মুক্বাল্লিবাল ক্বুলু-বি সাব্বিত ক্বালবী- আলা-দীনিক।
অর্থঃ “হে হৃদয়সমূহের পরিবর্তনকারী! আমার হৃদয়কে আপনার দ্বীনের উপর দৃঢ় রাখুন।” [জামে তিরমিযী, হাদিস ২১৪০]

★ আল্লা-হুম্মাকফিনী-বিহালা-লিকা ‘আন হারা-মিক, ওয়াগনিনী-বিফাযলিকা ‘আম্মান সিওয়া-ক।
অর্থঃ “হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হারাম ব্যতীত হালাল দ্বারাই যথেষ্ট করুন এবং আপনার অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে আপনি ব্যতীত অন্যদের থেকে অমুখাপেক্ষী করুন।” [জামে তিরমিযী, হাদিস ৩৫৬৩]

★ আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী-লা-ইলা-হা ইল্লা-হুয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়ু-মু ওয়া আতূ-বু ইলাইহ।
অর্থঃ “আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ নেই, যিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং আমি অনুতপ্ত হৃদয়ে তাঁর নিকট তাওবা করছি।” [সুনান আবু দাউদ, হাদিস ১৫১৭]

★ লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মূলকু ওয়ালাহুল হাম্‌দু ইয়ুহ্‌য়ী ওয়াইয়ূমীতু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর।
অর্থঃ “একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তারই এবং সকল প্রশংসা তাঁর। তিনিই জীবিত করেন এবং মৃত্যু দান করেন। আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান”।

মাগরিব ও ফজরের সালাতের পর উপরোক্ত যিকর ১০ বার করে পড়তে হবে। [তিরমিযী, হাদিস ৩৪৭৪; আহমাদ, হাদিস ১৭৯৯০। হাদিসটির তাখরীজের জন্য আরও দেখুন, যাদুল মা‘আদ ১/৩০০]

★ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা ‘ইলমান না-ফি‘আন্ ওয়া রিয্‌কান ত্বায়্যিবান ওয়া ‘আমালান মুতাক্বাব্বালান।
অর্থঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিযিক এবং কবুলযোগ্য আমল প্রার্থনা করি।”
যিকরটি শুধু ফজর সালাতের সালাম ফিরানোর পর পড়তে হবে। [ইবন মাজাহ্‌, হাদিস ৯২৫; নাসাঈ, তাঁর আমালুল ইয়াওমি ওয়াল্লাইলাহ গ্রন্থে, হাদিস ১০২। আরও দেখুন, সহীহ ইবনে মাজাহ, ১/১৫২; মাজমাউয যাওয়াইদ, ১০/১১১]
★★★
#সংকলনঃ #Obaidul_Bari.
#Date: 20 September 2019, Friday.